Sunday, 8 November 2026

বনকাপাসির পদাবলি

 




বনকাপাসি ! শোলার সাজের গ্রাম  বনকাপাসি। গ্রামের নামটা হয়ত অনেকেই প্রথম শুনছেন। তা তো হতেই পারে। আমাদের ভারতবর্ষে তো কতই গ্রাম রয়েছে। সব গ্রামের নাম তো মনে রাখা সম্ভব নয়। তবে এ গ্রামের নাম  শুধু পশ্চিমবঙ্গে নয়, শুধু ভারতবর্ষে নয়, ছড়িয়ে রয়েছে  সারা বিশ্বে । বিশ্বের সব থেকে বড় শোলা শিল্প গ্রামের তকমা পেয়েছে এই গ্রাম।  তাই সবাই এই গ্রামকে " শোলা শিল্প গ্রাম " নামে একডাকে চেনে। 




পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া মহকুমার মঙ্গলকোট ব্লকের অন্তর্গত শোলা সামগ্রি নির্মাতাদের এই গ্রাম বনকাপাসি। বর্ধমান-কাটোয়ার রোডের পাশেই এই গ্রাম।  প্রায় একশো বছরেরও বেশি  পুরোনো এই শিল্পকে ধরে রেখেছে এই গ্রাম।  এটি একটি ঐতিহ্যবাহী কুটির শিল্প যা শুধু ভারতবর্ষ কেন সারা বিশ্বে সমাদৃত। তাই এই গ্রামের পরিচিতি " শোলা শিল্প গ্রাম  " বা  " শোলার সাজের গ্রাম  " হিসেবেও।  বহু স্বনির্ভর গোষ্ঠী এবং তাদের সাথে যুক্ত হাজারেরও বেশি কারিগর এই কাজে যুক্ত।  এইসব কর্মী বা গোষ্ঠীদের উৎসাহিত করতে রাজ্য সরকার এই গ্রামটিকে " শোলা হাব " হিসেবে ঘোষনা করেছেন।  ঐতিহ্যবাহী এই  কুটির শিল্প ভবিষ্যতে আরও উন্নতি করার লক্ষ্যে সভাবত: এটি একটি বড় পদক্ষেপ।  



শোলা জিনিসটা কি ? শোলা হল একরকম জলজ উদ্ভিদ। শোলা গাছের ছাল থেকে তৈরি শুকনো দুধের মতো সাদা স্পঞ্জি  পদার্থ।  এর বৈজ্ঞানিক নাম  " এস্কাইনোমিনি  অ্যাস্পেরা " । মূলত এটি একটি বর্ষাজাত  উদ্ভিদ।  হিন্দুরা বিশ্বাস করেন এই গাছ খুবই পবিত্র।  সে কারণেই যে কোনো শুভ কাজে ব্যবহৃত হয় এই শোলা। বিশেষ করে দেব-দেবীর অলঙ্কার,  মালা,  মুকুট , আবার বরের টোপর ইত্যাদির মতো জিনিস তৈরী করা হয়। দেব-দেবীর সাজ সজ্জা থেকে আরম্ভ করে বিভিন্ন সাজার জিনিস সবই তৈরি হয় এই শোলা দিয়ে।  আগেকার দিনে এই সাজকে  ডাকের সাজ বলা হতো।  কেনই বা এইরকম নাম হয়েছিল দেবতাদের পোশাকের।  লোকমুখের এই নাম খুবই পরিচিত  এবং জনপ্রিয়। এই  জনপ্রিয়তার পিছনের  ইতিহাস এই রকম......  বেশ কিছুকাল আগের কাগজপত্র ঘাটলে দেখতে পাবো, আগেকার দিনে দেবী দুর্গার অলঙ্কার তৈরী করা হত পেটানো রুপোর পাত দিয়ে। এই রকম পাত আসতো জার্মানি থেকে ডাকে। এই কারনে এর নাম হয়েছে ডাকের সাজ।  কিন্ত এই প্রথা বন্ধ হয়ে গেছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে। এই  সাজ তখন থেকে  দখল করে নেয় শোলার সাজ। এক টুকরো শোলা। এর সাথে সঙ্গী হয় শিল্পীমন, শিল্পীর দুই হাত আর নানা মাপের চাকু।   ছুরি দিয়ে কেটে তাতেই ফুটে উঠছে অমূল্য এক শিল্প কর্ম।  দেব-দেবী , মনিষীদের অবয়ব থেকে বিভিন্ন কারুকার্যের অপূর্ব শিল্পকলা। এই গ্রামের শোলা শিল্প দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে পারি দিচ্ছে আমেরিকা,  সিঙ্গাপুর,  ফ্রান্স,  ইতালি, জার্মানি, নরওয়ে বা এডেনবরা সহ বিভিন্ন দেশে।



এখন প্রশ্ন হল কেন দেব-দেবীর সাজ পোশাক, অলঙ্কার,  মালা, মুকুট হিসেবে বেশী ব্যবহৃত হয়। একটু যদি পুরাণ নিয়ে ঘাটাঘাটি করি তবে দেখতে পাবো পার্বতীকে বিয়ে করার সময় শিবের নাকি সাদা টোপর পরার বাসনা হয়। সেই সময় দেবশিল্পী বিশ্বকর্মার কথায় টোপর তৈরির উপাদান হিসেবেই শোলার জন্ম দেন স্বয়ং শিব। একই সাথে তিনি জলাশয়ের সৃষ্টি করেন। সেই  জলাশয়ে শোলা জন্মালে এক সুকুমার যুবকের প্রচেষ্টায় হরগৌরির বিয়ের টোপর, মুকুট,  মালা তৈরি হয়। এই কাজে সকলে মুগ্ধ হন। তখন তার নামকরন হয় মালাকার । আমাদের পশ্চিমবঙ্গে এই মালাকারই শোলা শিল্পের ধারক ও বাহক। তবে বর্তমানে অনেক সম্প্রদায়ের মানুষ জীবিকার সন্ধানে এই কাজে যুক্ত হয়েছেন।



রাষ্ট্রপতি পুরস্কার প্রাপ্ত শিল্পী শ্রী আশীষ মালাকারের বাড়ি ও তার সব  কর্মকান্ড এই বনকাপাশি গ্রামেই।  তিনি রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পেয়েছেন ১৯৯০  সালে আর শিল্পগুরু পুরস্কার পেয়েছেন ২০০৭ সালে। আশীষবাবু জানালেন তাঁর ঠাকুরদা শ্রী মৃত্যুঞ্জয় মালাকারের এক দোকান ছিল  কুমারটুলিতে। ইনার স্ত্রী অর্থাৎ  আশীষবাবুর ঠাকুমা শ্রীমতি কাত্যায়নী দেবীও শোলার কাজে খুব পটু ছিলেন।  ঠাকুমা রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পেয়েছিলেন  ১৯৭৯ সালে। ঠাকুমা সব সময় শোলার কাজে ঠাকুরদাকে সাহায্য করতেন। মৃত্যুঞ্জয় মালাকারের শোলার কাজ দেখে নেতাজী মুগ্ধ হয়েছিলেন।  নেতাজীর অনুরোধে মৃত্যুঞ্জয় মালাকার নেতাজীর বাড়িতে কালীঠাকুর সাজিয়েছিলেন। আশীষ বাবুর বাবা আদিত্য মালাকার এই শিল্প- কাজের ধারা বজায় রেখেছিলেন।  কুমারটুলির দোকানের ব্যপারে কিছু অসুবিধা হওয়াতে মৃত্যুঞ্জয় বাবু সপরিবারে এই বনকাপাশি গ্রামে চলে আসেন। আশীষ বাবুর কাজ শেখা তাঁর বাবার কাছ থেকে। আদিত্য বাবু রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পান ১৯৭৪ সালে। আশীষ বাবু দেশের বিভিন্ন প্রদর্শনীতে অংশ গ্রহন করেন। এই  কাজ নিয়ে তিনি বিদেশের প্রায় আটটি দেশ ঘুরে এসেছেন।  তার বাবা অনেক বেশি বার  বিদেশে গিয়েছেন।  তাই বাংলায় শোলা শিল্পের এই ব্যাপক উন্নতির জন্য এই পরিবারের অবদান  অনেক। বিশ্বমঞ্চে শোলা শিল্পের পরিচিতি বা শোলা শিল্পের প্রতি আগ্রহ তৈরি করেছেন এই পরিবারই ।



প্রায় ১০০ থেকে ১২৫ বছর আগে বনকাপাসিতে শোলার কাজের সূত্রপাত হয়েছিল।  সে সময় অবশ্য আজকের মতো বড়ো আকারের কারখানা বা বৈচিত্র্যপূর্ন কাজ ছিল না। কলকা বা ঠাকুরের ডাকের সাজ সহ অল্প কিছু সামগ্রী তৈরি করেই চলত এই শিল্প।  পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে এই কাজের পরিধি বাড়ে। প্রায় ৫০ বছর আগে থেকে বনকাপাসিতে শোলার কাজ অনেক বেশি বিস্তৃত হতে শুরু করে। একটি পরিবার থেকে ক্রমে বহু পরিবার এই  পেশায় যুক্ত হয়। এখন  বনকাপাশির ৯০শতাংশ মানুষই  এই শিল্পের সাথে জড়িত।  সারা বছর প্রায় ৫০ কোটি টাকার উপর কাজ হয় এই  শিল্প গ্রামে। কুটির শিল্পের ইতিহাস দেখলে দেখা যাবে বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকে এই শিল্প বিশেষ  গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পরে। দেব-দেবীর সাজ সজ্জায় " ডাকের সাজ "  সারা বিশ্বের সামনে বনকাপাশিকে তুলে ধরে। এ সবের পরিচিতি বিভিন্ন নথি ও তৎকালীন অনেক প্রতিবেদনে পাওয়া যায়। 


দেব-দেবীর পুজোর সময় তাঁদের সাজ সজ্জা, মালা, মুকুট, অলঙ্কার সবই দরকার পরে। আমরা যেমন পুজোর কেনাকাটা জন্য  শপিং মলে যায় , ঠিক সেইরকম দেব-দেবীর সব কিছু  কিনতে হলে পশ্চিমবঙ্গের দেব-দেবীর শপিং মল বনকাপাসিতে যেতে হয়। এছাড়া হিন্দু বিবাহের শুভ কাজে  টোপরের এর যোগান এই  বনকাপাশিই দিয়ে থাকে। আবার গ্রাম বাংলায় লক্ষ্য করলে দেখা যায়, যখন কোনো শিশুর জন্ম হয়, তখন তার জন্ম উদযাপন করতে ষষ্ঠী পুজো অনুষ্ঠিত করতে হয়। একটি ছোট্ট চাঁদমালা, শোলার তিনটি সূক্ষ্ম নকশার গোলাকার থালা একসাথে বেধে খারা ভাবে ঝুলিয়ে ...... অর্পণ করা হয়। আবার যখন কেউ মারা যায়  , তার শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের পর, শোলার একটি ছোট ভেলা জলে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। তাই  হিন্দুদের কাছে শোলা জন্ম,  বিবাহ  ও মৃত্যু তিন সময়ই দরকার হয়। তবে যাই হোক এখন আর এই  শোলার কাজ শুধুমাত্র দেব-দেবীর সাজ পোশাক  বা বিয়ের মাথার টোপরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।  তা এখন ঐ জায়গা থেকে ফ্যাশন শো এর RAMP পর্যন্ত এগিয়ে গিয়েছে।  সম্প্রতি শোলার সাজ মালয়েশিয়ার  ফ্যাশন শো তে বিশ্বমঞ্চ কাঁপিয়ে দিল এই বনকাপাশি।ফ্যাশন শো তে শোলার সাজে অংশ গ্রহন করেছিলেন বেহালার এক তরুণী। চমকে দিয়েছেন তিনি। সারা শরীরে ছিল শোলার পোশাক।  তাঁর এই শোলার পোশাকের ডিজাইন দিয়েছেন  এবং পোশাক তৈরী করেছেন বনকাপাশির রাষ্ট্রপতি পুরস্কার প্রাপ্ত শিল্পী শ্রী আশীষ মালাকার। 







আপনি যদি সড়কপথে নিজের গাড়ি নিয়ে যেতে চান  তবে State Highway  14 অর্থাত  বর্ধমান-কাটোয়া রোডের পাশেই এই গ্রাম।  আর ট্রেনে যেতে চান তবে বর্ধমান-কাটোয়া লাইনে বনকাপাশি ষ্টেশন রয়েছে। বনকাপাশি ষ্টেশনে নেমে অটো বা টোটো করে বনকাপাশি গ্রামে পৌচ্ছে যান। বর্ধমান ষ্টেশন থেকে এই গ্রামের দূরত্ব প্রায় ৪৬ কি মি। ভাতার থেকে এর দূরত্ব ২৮ কি মি। আর কাটোয়া রয়েছে এর থেকে ১৫ কি মি দূরে। 


এখানে ( বনকাপাশিতে) সরল নকশার কাজ বেশি হয়ে থাকে। তবে ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী যে কোনো কাজ এখানকার শিল্পীরা করে দিতে পারেন।  এই বিশেষ ক্ষমতার অধিকারী বলে চন্দননগর বা যে কোনো পূজো কমিটি থেকে দেওয়া যে কোনো কাজ বা নকশা শিল্পীরা অনায়াসে করে দিতে পারেন। এখন অবশ্য পুরোনো ধারার কাজের সাথে আধুনিক এবং নতুন ধরনের কাজ সংমিশ্রন হয়ে চলেছে। তাই এই শিল্প এখন নতুন ও পুরাতনের মিশ্রণ।  পুজোর সময় কাজের জোয়ার এলেও সারা বছর ধরে আগে যেমন কাজের চাহিদা ছিল তেমন আর নেই।  কাজের চাহিদায় অনেক ভাটা পরেছে যা কিনা নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের কাছে এক চাপ সৃষ্টি করেছে। এছাড়াও রয়েছে কাঁচামাল অর্থাত শোলা যোগানের অভাব। আগে শোলার চাষ হত বনকাপাশিতেই।  কিন্ত জলাশয়ের অভাবে সেই চাষ বন্ধ হয়ে গেছে। এখন  শোলা আনতে হয় দক্ষিণবঙ্গ থেকে ।  পরিবহন খরচা অনেক বেড়ে গেছে। তার উপর রয়েছে পুলিশের জুলুমবাজি। যে শোলার দাম ছিল  ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, সেই শোলার দাম বেড়ে দাড়িয়েছে ৪০০০ টাকা থেকে ৫০০০ টাকা। এছাড়াও রয়েছে অসাধু লোকের ঠকবাজি। তাই তরুনদের মধ্যে অনেকেই এই কাজ ছেড়ে দিয়ে জীবিকার সন্ধানে অন্য কাজে চলে যাচ্ছে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে দাড়িয়ে বলতে হচ্ছে বনকাপাশির ঐতিহ্যবাহী শিল্প বাংলার সংস্কৃতিক পরিচয়ের এক বিরাট অংশ।  ঠিক আবার অন্য দিকে বলতে হয়,  নতুন প্রজন্মকে এই শিল্পে  ধরে রাখাও এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে। যদিও প্রবীনেরা সেই আগের মতোই আনন্দে আর উৎসাহে তাদের শিল্প কর্ম  চালিয়ে যাচ্ছেন । তাদের দৃড়তা এই ভেবে যে শোলা শিল্পটাই হল ...... ঈশ্বরের কাজ। যে কোনো রকম কষ্ট আসুক না কেন আমরা মানিয়ে নিতে পারবো।

‍ 

$$$*** সংগৃহীত ***$$$





Sunday, 18 October 2026

অযোধ্যা গ্রামের বোনেদি দুর্গাপুজো

 




একবেলার ছোট্ট এক সফরে চলুন দেখে আসি পুরানো দিনের সেই বোনেদি দুর্গাপুজো। ইতিহাস ঘাটলে দেখা যাবে উনিশ শতকের পরাধীন ভারতে বাংলার দুর্গাপুজো মানেই ছিল জমিদার বা রাজবাড়ির পুজো। সেই সব পুজোর মধ্যে কিছু ছিল বেশ নাম করা। সেগুলির মধ্যেই অন্যতম বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর ব্লকের দ্বারকেশ্বর নদীর তীরে প্রাচীন বর্ধিষ্ঞু অযোধ্যা গ্রামের জমিদার বাড়ির পূজো। হ্যাঁ, তবে আগে যে জাকজমক ছিল  তা আর এখন নেই।  আর্থিক অনটনই এর অন্যতম কারণ।  তাই তখনকার দিনের মতন আয়োজন সম্ভব হয় না। তবে জৌলুসে খামতি থাকলেও আগেকার সব নিয়ম মেনেই আজ এই পুজো চলে আসছে। 




আরও দেখা যাবে এই  বংশের পূর্ব পুরুষ হরি বন্দোপাধ্যায় ১৬৪৫ সাল নাগাদ  অযোধ্যায় আসেন। ইনিই অযোধ্যা বসবাসকারী সমস্ত বন্দোপাধ্যায় বংশীয়দের আদি পুরুষ। তখন কিন্ত ইনাদের কোনও জমিদার  ছিল না।  হরি বন্দোপাধ্যায়ের অধস্তন চতুর্থ পুরুষ ছিলেন নিমাই চন্দ্র বন্দোপাধ্যায়। তার চার পুত্র ও এক কন্যা ছিল। ছেলেদের নাম....কৃষ্ণমোহন,  লালমোহন, রামমোহন  ও গদাধর।  কন্যার নাম ছিল  সখিমনি। রামমোহন চাকরির খোঁজে বাংলার বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরি করতে করতে হুগলির শ্রীরামপুরে আসেন এবং সেখানে চিক নামের এক নীলকর সাহেবের সাধারণ কর্মচারী হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন। নিজের সততা,  বুদ্ধিমত্তা, কর্ম তৎপরতা ও বিশ্বাসযোগ্যতায় সাহেবের অত্যন্ত প্রিয়জন ও স্নেহভাজন হয়ে ওঠেন।সাহেব তাঁকে দেওয়ান পদ দেন। কিছুদিন পর ঐ নীলকর সাহেব তখনকার দিনের এক দূরারোগ্য ব্যাধি কলেরাতে আক্রান্ত হন।  আশেপাশের সব মানুষজন ভয়ে তাঁকে রেখে পালিয়ে যান। কিন্ত রামমোহন বাবু তাকে সেবা শুশ্রুসা করার জন্য তার পাশেই থাকেন এবং বিশ্বস্ততার ও সততার পরিচয় দেন।  তখন সাহেব তার ভারতের সমস্ত সম্পত্তির অর্ধেক রামমোহনকে এবং বাকি অর্ধেক সম্পত্তি তার লন্ডনের বসবাসকারী স্ত্রীকে ভারতে এলে দিয়ে দিতে বলেন। তাই নীলকর সাহেবের মৃত্যুর পর তাঁর কথামত রামমোহন বাবু অর্ধেক সম্পত্তি সাহেবের স্ত্রীকে দেন বাকি অর্ধেক সম্পত্তি নিয়ে অযোধ্যায় ফিরে আসেন।  এই সময় থেকেই বন্দোপাধ্যায় পরিবারের জমিদারি শুরু হয়।




একসময় জমিদারির দাপট ব্যাপক হয়ে উঠে। রামমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সময় এই বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের বৈভব ও দাপট বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। এক কথায় বলা যায় এই সময়কাল  বন্দ্যোপাধ্যায় জমিদারদের স্বর্ণযুগ। ১০৮ জন লাঠিয়াল সব সময় পাহারা দিত জমিদার বাড়ি ও জমিদারদের।  রামমোহন বন্দোপাধ্যায় সাহেবের কাছ থেকে পেয়েছিলেন ২২ খানা নীলকুঠি । তাদের  জমিদারি ছিল  অযোধ্যার প্রায় ৮৫টি মৌজায়। এছাড়াও তালডাংরা, বড়জোড়া ছিল এই জমিদারদের অধীনে। খাজনা আদায় করে আনা হত হাতির পিঠে করে। হাতি প্রবেশের জন্য তৈরী করা হয়েছিল বিরাট এক সিংহ দুয়ার। লোকেরা একে বড়ো ফটক বলত। খাজনা আদায় করে রাখা হতো আটচালায়। সেখানে আলাদা করা হত সোনা, রুপা , তামা, কাসাঁ ও পেতল । সেগুলি ঝুড়িতে করে আলাদা আলাদা করে নিয়ে গিয়ে রাখা হত কোষাগারে। আগে বিষ্ণুপুর রাজাদের কামানের গর্জন শুনে অষ্টমীর সন্ধিক্ষনে চালকুমড়ো বলি হত । তবে এখন পুঁজির সময় অনুসারে হয়ে থাকে। জমিদারীর বাড়বাড়ন্ত হয় এই রামমোহনের আমলেই।  পরবর্তীকালে গদাধর বন্দোপাধ্যায়ের আমলে জমিদারি আরও উন্নতি হয়।  জমিদারির এই অভূতপূর্ব উন্নতির জন্য   এবং জনকল্যান কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ১৮৬০ সালে ব্রিটিশ সরকার  গদাধর বন্দোপাধ্যায়কে  " রায় বাহাদুর " উপাধিতে ভূষিত করেন। অযোধ্যার জমিদারের এই পদবী লাভ সে যুগে ওই অঞ্চলে তাঁদের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাবের এক মস্ত বড় স্বীকৃতি ছিল।









সিংহদ্বার দিয়ে ঢুকে বামদিকে দেখতে পাবেন দ্বাদশ শিব মন্দির।  সিংহদ্বার লাগোয়া সমউচ্চতায় রয়েছে নহবতখানা। জমিদার বাড়ির যে কোনো আনন্দ অনুষ্ঠানে এখানে সানাই-এর আসর বসতো। আজ সেই প্রায় ধ্বংসের মুখে। সিংহদ্বারের ডান পাশে রাখা আছে ১৮৬৭ সালে নির্মিত ৮ ফুট উচ্চতার পিতলের রথ। এখনও এই রথ রাস্তায় বার হয়। এবার সামনের দিকে তাকালে দেখতে পাবেন গিরিগোবর্ধন মন্দির, দোল মন্দির,  রাস মন্দির।  পরিবারের ইতিহাস থেকে জানা যায় যে এই চার সহোদর ভাই তাঁদের মা রঙ্গিমনির নামে রাসমঞ্চ প্রতিষ্ঠা করেন। এর প্রতি দিকের দৈর্ঘ্য প্রায় ৮ ফুট ও উচ্চতায় প্রায় ২৫ ফুট। এছাড়াও রয়েছে দুর্গামন্দির, নাটমন্দির ও তাঁদের কুলদেবতা রাধাদামোদরজিউ-এর মন্দির।  রাধামাধবজিউ মন্দিরে রয়েছে দুটি শালগ্রাম শিলা। বড়টির নাম বংশীগোপালজিউ এবং ছোটটির নাম রাধাদামোদরজিউ। ইনাদের নিত্য সেবা হয় এবং অন্ন ভোগ দেওয়া হয়। পূজো শেষ হলে বারটি শিবের পূজো আরম্ভ হয়। গিরিগোবর্ধন মন্দিরটি ১৮৩৫ সালে নির্মিত হয়েছিল। কৃষ্ণের গিরিগোবর্ধন ধারণের সুপরিচিত কাহিনীর অনুসরণে এই  দেবগৃহ। এই  মন্দিরটি অভিনব  শিল্পের নিদর্শন রাখে।মন্দিরটি উচ্চতায় প্রায় ২৫ ফুট ও দৈর্ঘ্যগ্রন্থে ১৫ ফুট। সত্যিই এটি দেখবার মতন। গিরিগোবর্ধনের পূজো বছরে একদিন হয়। কালীপুজোর পরের দিন মন্দির খুলে পূজো করা হয়। এছাড়া সবসময় মন্দির বন্ধই থাকে। তবে অনুরোধ করলে মন্দিরের দরজা খুলে ঠাকুর দেখান জমিদার বংশের কেউ।








ইংরেজ সাহেবের বদন্যাতায় এই ব্যাপক উত্থান হলেও সবসময় দেশের মানুষের পাশেই থাকতেন জমিদার।  ইংরেজদের বিরুদ্ধে গিয়ে নিজেদের জমিদারিতে তিনি নীল চাষ বন্ধ করেছিলেন।  বাংলার গরীব চাষিদের রক্ষা করতে নীল চাষের পরিবর্তে ধান, সব্জি চাষের নির্দেশ দেন।  সভাবত: ইংরেজদের বিরুদ্ধে যাওয়ার জন্য বেশ কিছু সম্পত্তি হারাতে হয়েছিল। তবুও ইংরেজদের সাথে আপোষ করেননি কখনও। ইংরেজরা  দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পর ধীরে ধীরে সরকার জমিদারি প্রথা বিলাপ করেন। যার ফলে এই বিশাল প্রভাব প্রতিপত্তি আস্তে আস্তে কমতে থাকে। বর্তমানে বেশিরভাগ জমি ও সম্পত্তি সরকার অধিগ্রহণ করে নিয়েছে। তারপর যে টুকু পরে আছে তা দেবোত্তর ট্রাস্টের অধীনে রক্ষণাবেক্ষণ হয়। তাই বন্দোপাধ্যায় জমিদারদের প্রভাব প্রতিপত্তি সেরকম কিছুই আর না থাকলেও তাদের অতীতের ইতিহাস আজও অমলিন।








বন্দোপাধ্যায় পরিবারের বর্তমান সদস্য এবং দুর্গাপুজোর অন্যতম উদ্যোক্তা জানালেন যে এই পুজো প্রায় ২০০ বছর আগে শুরু করেছিলেন রামমোহন বন্দোপাধ্যায়। তিনি দেবী মূর্তিতে কোনও এক বিশেষত্ব  চেয়েছিলেন।  তাই শ্রীশ্রী চন্ডীমঙ্গলের বর্ণনা অনুযায়ী দেবী সিংহবাহিনী নন, এখানে দেবী  ব্যাঘ্রবাহিনী। তাই বন্দোপাধ্যায় জমিদার বাড়ির দেবী দূর্গা চন্ডীধরি। এখানে প্রতিমার মুখ ছাঁচে ফেলে তৈরি করা হয় না। বংশপরম্পরা প্রতিমা শিল্পী হাতে তৈরী করেন প্রতিমার মুখ। তাই প্রতিমাতে রয়েছে এক নজরকারা বিশেষ সাবেকিয়ানা। তিনি আরও দাবি করলেন যে এরকম মূর্তি বাঁকুড়া জেলায় আর দ্বিতীয়টি দেখা  যায় না। এছাড়া বাজনা হিসেবে থাকে ঢোল ও সানাই। এই পুজোতে ঢাক বাজানোর চল নেই।  তবে বর্তমানে সানাই বাদকের অভাব এবং টাকা পয়সার অপ্রতুলতার জন্য সানাই আর হয় না। শুধুমাত্র ঢোল বাজানো হয়।



 তাই দুশো বছরের এই দুর্গাপুজোর জাঁকজমক আগের চাইতে করলেও বন্দোপাধ্যায় বাড়ির ঐতিহ্য এবং রীতি আজও বজায় রয়েছে। আজও প্রাচীন রীতি মেনে পুজো এলেই ভাঁড়ার থেকে বের করে আনা হয় নবপত্রিকা আনার রুপোর ৫০ কে জি র পালকি  ও পূজার যাবতীয় রুপোর বাসন। এই পকলকি করে গ্রামের শেষপ্রান্তের দহঘাট থেকে নবপত্রিকা আনা হয়। বিসর্জন একই ভাবে হয় । পুরো পুজো বৈষ্ণব রীতি মেনে হয়। তাই অষ্টমীতে চালকুমড়ো বলি হয়ে থাকে। পুজো আরম্ভ হবার দিন থেকে যে সব রীতিনীতি পালন করা হত, তা আজও মেনে চলার চেষ্টা করা হয়। খুব জোরেই সঙ্গে জমিদার প্রতিনিধি জানালেন যে ভবিষ্যত প্রজন্মও এই নিয়ম কানুন ধরে রাখার চেষ্টা করবে। 




অযোধ্যা গ্রাম মাকুড়গ্রাম- জয়কৃষ্ঞপুর সড়কের পাশেই অবস্থিত।  সড়ক পথে বিষ্ণুপুর থেকে অযোধ্যার দূরত্ব ১৩.৭ কি মি। আর বাঁকুড়ার দূরত্ব ৩২.৯ কি মি.। জয়কৃষ্নপুর মোড় থেকে অযোধ্যা ৫.৫ কি মি দূরত্বে রয়েছে। আর যদি রেলে আসতে চান তবে নিকটতম রেলওয়ে স্টেশন হ'ল বিষ্ণুপুর  যা অযোধ্যা থেকে ১৭ কি মি দূরে।






অযোধ্যা গ্রামের এই বন্দোপাধ্যায় জমিদার বাড়ি অর্থাত সহজে চেনা যায় বাঁকুড়ার জমিদার বাড়ি বললে, প্রায় দু-শো বছরের পুরানো। একসময় এই বাড়ি ছিল  স্থানীয় প্রশাসনের কেন্দ্র যেখানে জমিদাররা বসে বিচার করতেন,  উৎসব করতেন এবং  সংস্কৃতির চর্চা করতেন। বাড়ির স্থাপত্যে রয়েছে বেঙ্গল রেনেসাঁর ছোয়া, পোড়ামাটির অলঙ্করণ এবং কাঠের কারুকাজ।  স্থানীয়দের কাছে খোঁজ নিলে জানা যায় এই জমিদার বাড়িতে এককালে কবি ও শিল্পীদের সমাবেশ হত। বাড়ির প্রতিটি কোণ যেন সেই সব ইতিহাসের সাক্ষী বহন করে চলেছে।  তাই এই জমিদার বাড়ি শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি একটি  ইতিহাসের জীবন্ত দলিল। একদিনের এই সফর একটি বাজেট ফ্রেন্ডলি সফর যা কিনা মোটামুটি ৫০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে সেরে ফেলতে পারবেন।  এ সফর নিরাপদ আর সহজেই আপনি জমিদার বাড়ি পৌঁচ্ছাতে পারবেন। তার সাথে আপনি সন্তুষ্টি পাবেন পুরোনো স্থাপত্য দেখে যার সাথে জড়িয়ে রয়েছে ঐতিহাসিক গল্প ও সংস্কৃতির নির্দশন। এছাড়া এটুকু জোর দিয়ে বলা যায় যে এই অজ গ্রামের মধ্যে যতক্ষন আপনি জমিদার বাড়িতে থাকবেন  ততক্ষণ আপনি পাবেন এক অপার শান্তি। একবেলার সফর অবশ্যই আপনার সার্থক হবে।

             

           ****$$  সংগৃহীত    $$****

                     ****&&&&&&****




Tuesday, 3 October 2023

স্থাপত্যের উজ্জ্বলতা---- জটিলেশ্বর শিবমন্দির

 


অনাবিষ্কৃতপ্রায় , ঐতিহাসিক তাৎপর্যপূর্ণ ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতির বাহক ময়নাগুড়ির জটিলেশ্বর শিব মন্দির। 

মন্দিরের প্রধান গেট


মন্দিরের সন্মুখভাগ 


উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ি ব্লকে সুপ্রাচীন ঐতিহ্যবাহী অনেকগুলি মন্দির রয়েছে। এই তীর্থ ক্ষেত্রগুলির "জল্পেশ মন্দির " এবং " জটিলেশ্বর মন্দির " ভারত বিখ্যাত।  ময়নাগুড়ি থেকে প্রায় ১১ কিমি দূরে চুরাভান্ডার গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন মল্লিকহাট এলাকায় রয়েছে জটিলেশ্বর মন্দির।  তবে এই মন্দির কে গড়েছিলেন বা কবে তা তৈরি হয়েছিল তা আজও এক রহস্যের অন্ধকারে ঢাকা রয়েছে। 


বাবা জটিলেশ্বর 


ইতিহাস ঘাটলে মন্দির নির্মাণ সম্পর্কে যে সব তথ্য জানা যায় সেগুলি এই রকম। একদল গবেষক তাদের গবেষণার পর সিদ্ধান্তে এসেছেন যে এটি পাল যুগে তৈরি হয়েছিল।  অন্য গবেষক দল জানিয়েছেন মন্দিরটি তৈরি হয়েছিল পালযুগের অনেক আগে অর্থাৎ  গুপ্তযুগের আমলে। আবার প্রত্নতত্ত্ববিদরা  প্রত্নতত্তিক উপাদান নিয়ে  গবেষণার পর এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে এই মন্দিরের বয়স কমপক্ষে  হাজার বছরেরও বেশি। কিংবদন্তিতে যাদের বিশ্বাস তাঁরা বলে থাকেন যে এই মন্দির ৩২০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ৬০০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে তৈরী হয়েছিল।  সময়ের কারনে মন্দিরের দেওয়াল বারবার সংস্কারের ফলে মন্দিরের পুরানো ঐতিহ্য অনেকটাই মুছে গিয়েছে। তবু আজও এই মন্দির সেই পুরোনো দিনের মতই জটাজুটধারী শিবের উপাসনাস্থল হিসেবেই ভক্তদের কাছে বিশেষ ভাবে পরিচিত। 




মন্দির এলাকায় বিভিন্ন পাথরের মূর্তি



গুপ্ত রাজবংশের দ্বারা নির্মিত হওয়ায় এই মন্দির বহু পুরানো ও বলা যেতে পারে উত্তরবঙ্গের প্রাচীনতম মন্দিরগুলির মধ্যে একটি। এইজন্য এর ঐতিহাসিক গুরুত্বের আধিক্য রয়েছে। বলা যেতে পারে ভারতের মধ্যযুগীয় স্থাপত্যের স্বতন্ত্রের প্রতীক।  মন্দিরটি পাথর ও মাটির ইট ব্যবহার করে নির্মিত হয়েছিল।  যদিও এটি ভগবান শিবের মন্দির,  মন্দিরের দেওয়াল গুলিতে অন্যান্য হিন্দু দেবতার মূর্তি দিয়ে ভাস্কর্য করা হয়েছে। পাশেই রয়েছে লক্ষী-নারায়ন মন্দির।  আর রয়েছে মা কালীর মন্দির।  মন্দির এলাকায় প্রবেশের জন্য দর্শক প্রতি ৫ টাকা করে টিকিট কাটতে হয়। তবে একবার ভিতরে ঢুকলে পরে ঐ এলাকা জুড়ে এক শান্তির ছায়া পাবেন এবং ইচ্ছা হবে বট গাছের তলায় বসে কিছুটা সময় কাটাতে পারলে ভালো হতো।




জলঢাকা নদী বয়ে চলেছে এই মন্দিরের খুব কাছ দিয়ে। মন্দির ঠিক কতটা প্রাচীন এই তর্কে অংশ গ্রহণ না করে ভক্তরা আসেন জটিলেশ্বর মন্দিরে তাদের যাবতীয় কষ্ট থেকে মুক্তি পাবার জন্য।  এই মন্দির অত্যন্ত জাগ্রত....... এটাই ভক্তদের গভীর বিশ্বাস।  আর এই মন্দিরের দেবতা  বাবা জটিলেশ্বর তার ভক্তদের খালিহাতে ফেরান না। ভোলানাথের কৃপায় এই মন্দিরে এসে বাবার কাছে চাইলে সে যতই কঠিন ও জটিল সমস্যাই হোক না কেন,  ভক্তরা তা থেকে মুক্তি পান। এই বিশ্বাসের উপর ভর করে দেখা যায় যে বহু ভক্তই এখানে আসছেন বংশ পরম্পরায়। 



বাগডোগরা বিমানবন্দর এখান থেকে ৮৫ কি মি। সেখান থেকে ভাড়ার গাড়িতে এখানে চলে আসতে পারেন।  রেলে আসতে গেলে নিউ ময়নাগুড়ি ষ্টেশন থেকে ১৪ কি মি দূরে এই মন্দির।  সঢ়কপথে ময়নাগুড়িতে এসে সেখান থেকে বাস বা ট্যাক্সি করে হুসলুরডাঙ্গা চলে আসুন।  আর সেখান থেকে আরামে সহজে পৌচ্ছে যান মন্দিরে।

মা কালীর মূর্তি

প্রাচীন বটগাছে মানত করা


মন্দিরের দেওয়ালে পাথরের মূর্তি


জটিলেশ্বর মন্দিরকে ঢেলে সাজাতে উদ্যোগী হয়েছে পর্যটন দফতর।  রাজ্য পর্যটন দফতর চায়, ইতিহাস সমৃদ্ধ এই এলাকাটি সাধারণ পর্যটকের কাছে তুলে ধরতে। সেজন্য " ডুয়ার্স মেগা ট্যুরিস্ট " প্রকল্পের অধীনে এই মন্দির এনে ,পুরোনো কাঠামো অক্ষত রেখেই, পর্যটন মন্ত্রকের আর্থিক সহযোগিতায় মন্দির চত্বর ঢেলে সাজনো হচ্ছে। এমনিতেই ময়নাগুড়ি খুব সুন্দর জায়গা। এক দিকে তিস্তা আর এক দিকে জলঢাকা। পাশেই গরুমারা। ভ্রমনার্থীদের সুবিধার জন্য নিউ জলপাইগুড়ি ষ্টেশন থেকেই বাস পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে পর্যটন দফতর। এসব পরিকল্পনা সফল হলে তখন বলা যাবে ডুয়ার্স বলতে শুধুই  জঙ্গল বা চা বাগান  বা নির্সগতা  বোঝায় না, ডুয়ার্স বলতে সুপ্রাচীন এক সভ্যতার নিদর্শন।