Tuesday, 14 May 2019

মারোখান-পানশিউলি গ্রাম, হুগলি।

হুগলি জেলার প্রান্তিক এক গ্রাম মারোখান-পানশিউলি। এখানে মুন্ডেশরী নদী এসে মিশেছে রুপনারায়নের সাথে। রুপনারায়নের ওপারে মেদিনীপুরের খৈজূর গ্রাম। নিয়মিত ফেরি পারাপারের ব‍্যবসথা আছে।
আর মুন্ডেশরী নদীর ওপারে হাওড়া জেলার গোরাবেড়িয়া-চিৎনান এবং ভাটোরা গ্রাম। এই গ্রামগুলোকে মুন্ডেশরী, দামোদর ও রূপনারায়ন নদী ঘিরে রেখেছে। হাওড়া ও হুগলির সঙগযোগকারী এই বাঁশের সেতুটি তৈরি হয়েছে শেখ লালচাঁদ নামে এক ঘাট মাঝির চেষ্টায় ও আর্থিক সহযোগিতায়। প্রায় ৩৫০০ বাঁশ দিয়ে ১৬ জন কর্মী ২৮ দিন লাগাতার কাজ করে এটি তৈরি করেছে। খরচ পড়েছে প্রায় ৭.৫ লাখ টাকা।
কলকাতা থেকে প্রায় ১৫৯ কি মি দূরে। নিকটবর্তী রেল স্টেশন বাগনান-- ২০.৪ কি মি দুরে। ঘাটাল এখান থেকে ১৩.৬ কি মি। খানাকুল প্রায় ১৫ কি মি দুরে।











Monday, 13 May 2019

পিঙলার নয়াগ্রাম - পটের গ্রাম - পশ্চিম মেদিনীপুর।

পটের গ্রাম -- পিঙলার  "  নয়া  " --  পশ্চিম মেদিনীপুর

বাংলার হারিয়ে যেতে বসা পটচিত্রের শিল্পীদের গ্রাম। হাজার বছরের প্রাচীন এই শিল্পকে আঁকরে আজও বেঁচে আছেন মেদিনীপুরের পিঙলা ব্লকের ‌অজ গ্রামের এই বাসিন্দারা। পটট্ কথাটির অর্থ কাপড় ও চিত্র মানে অঙ্কন। এই পটচিত্র শিল্পীদের ব‍্যবহৃত রং বিভিন্ন গাছগাছালির প্রাকৃতিক উপাদান থেকে নিজেরাই তৈরি করে নেন। এর সঙ্গে আরেকটি প্রাকৃতিক উপাদান --  বেলের আঠা -- মিশিয়ে এই রং তৈরির প্রক্রিয়াও একটা দর্শনীয় ব‍্যাপার।

পশ্চিমবঙ্গের এমন একটি শিল্পমাধ্যম ,  পটচিত্র ,  যা দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহীক ও পুরাতন। সামাজিক, ঐতিহাসিকের পাশাপাশি সমসাময়িক বিষয়ও  পটচিত্রের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। রামায়ণ, মহাভারত, চন্ডী মঙ্গল, মনসা মঙ্গলের চিরকালীন কাহিনীগুলোর পাশাপাশি সাম্প্রতিক কন‍্যাশী প্রকল্পের সাফল্যোও হয়ে উঠেছে পটচিত্রের বিষয়। পুটুয়ারা এই ভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছেন এবং সমসাময়িক করে রেখেছেন আমাদের এই সংস্কৃতিকে  রেখায় ও কথায়। পটের ছবিটির কাহিনী গান গেয়ে বর্ননা করেন শিল্পীরা। ছবিতে ,  সুরে জীবন্ত হয়ে উঠে বিষয়।  আজ তাই একথা বলাই যায় যে নয়াগ্রাম শুধু জেলার গর্ব নয়, রাজ‍্যের তথা দেশের গর্ব।

মূলত তিন ধরনের পট হয়। জড়ানো বা গোটানো পট, আড়েলাটাই পট ও চৌকানো  পট। জড়ানো বা গোটানো পট অনেকটা সিনেমার রিলের মতো। যাতে ১০ - ১৫ টি ছবির মাধ্যমে ধারাবাহিক ভাবে কাহিনীটি বর্নিত হয়।  আগেকার দিনে এই জড়ানো পট দেখিয়ে ও গান গেয়ে গ্রামে গ্রামে মানুষের মনোরঞ্জন করতেন পটুয়ারা। আড়েলাটাই পটের বেলায় গড়নটা হয় লম্বাটের বদলে অনুভূমিক। আর নাম থেকেই বোঝা যায় যে চৌকাপট হচ্ছে ছোট ছোট চৌকানো পট।

গোটানো ক‍্যানভাস খুলে পটের ছবি দেখাতে দেখাতে শিল্পীরা যে গান করেন তাকে বলে পটের গান। এই সব গানের কথা নিজেরাই বানান এবং সুর নিজেরাই দেন। এই গান পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে প্রবাহিত হয়ে আসছে।

পর্যটকদের সবসময় স্বাগত জানায় পটচিত্রের গ্রাম --- নয়া। সরকারি উদ্যোগে বা পটুয়াদের নিজেদের ব‍্যবস্থাপনায় এখানে থাকা খাওয়ার ব‍্যবস্থা রয়েছে।

পটুয়াদের নিজস্ব সংগঠন চিত্রতরু ক্লাস্টারের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হবে নবম বর্ষের পটচিত্র মেলা   "  পটমায়া "   আগামী ১৫ - ১৮ নভেম্বর , ২০১৮।

এই পটের গ্রামের নিকটবর্তী রেলস্টেশন হাওড়া - খড়্গপুর লাইনের বলিচক। বালিচক থেকে বাসে / গাড়ীতে নয়াগ্রাম ( পিঙলা ) আধ ঘন্টার রাস্তা। কলকাতা থেকে সড়কপথে দূরত্ব ১২৫ কি মি। খড়্গপুর গামী বাসে ডেবরায় নেমে সেখান থেকে ময়নার বাসেও নয়াগ্রাম যাওয়া যায়।
















পশ্চিম বর্ধমানের বৌদ্ধ স্তূপ, পশ্চিম বর্ধমান।

পশ্চিম বর্ধমানের বৌদ্ধ স্তুপ-----

বৌদ্ধধর্মের মহাযান শাখা থেকে কালচক্রযান , সহজযানের মতো শাখাগুলি বাঙলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে প্রসার লাভ করে। তার সাক্ষ্য বহন করে বাংলার বৌদ্ধ স্তুপগুলির ধ্বংসাবশেষ। যেমন পশ্চিম বর্ধমানের ভরতপুর বৌদ্ধ স্তুপটি। দূর্গাপুরের অদূরে দামোদরের পারে ভরতপুর বৌদ্ধ স্তুপটি বেড়া দিয়ে " সঙরখিত এলাকা " ঘোষণা করেছে পুরাতত্ত্ব বিভাগ।

ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বখন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বৌদ্ধ ভিক্ষুদের বাসস্থান, ধর্ম শিক্ষা , ধর্মীয় আচার পালন ও ধ্যানের জায়গা হিসাবে বৌদ্ধ বিহার গুলি গড়ে ওঠে। সেগুলো ইট দিয়ে তৈরি ও কয়েক তলা পর্যন্ত উঁচু হতো। ভিতরে থাকতো উঠান, বারান্দা , মঞ্চ, উপাসনা গৃহ। মন্দিরের ভিতরে বুদ্ধ, বোধিসতত্ব অথবা বৌদ্ধ ধর্মের অন্য কোনোও দেবদেবীর মূর্তি থাকত। সাধারণত, গুপ্ত ও পালযুগে এমন বিহার গুলি বাঙলা, বিহারে তৈরি হয়। ভরতপুরে এখনও মাটির উপরে সে রকমই স্তূপের মাথা ‌দেখা যায়। ভরতপুরে ১৯৭১ ও ১৯৭৪ সালে দু দফায় ভারতীয় পুরাতত্ত্ব বিভাগ ও বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনায় খননকার্যে বৌদ্ধ স্তুপটির অস্তিত্ব জানান যায়। মেলে বৌদ্ধ ধর্মের নানা নিদর্শনও। তবে এর পরে চার দশক কেটে গেলেও আর খননকার্য হয়নি এলাকায়।

এটিই রাঢ় অঞ্চলে আবিষ্কৃত একমাত্র বৌদ্ধ স্তুপ। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে সঙরখিত পুঁথিতে "তুলাখেত্র বর্ধমান স্তূপ" নামে এই স্তূপের উল্লেখ পাওয়া যায়। স্তূপটির আয়তন ১২.৭৫ মিটার × ১২.৭৫ মিটার। বর্গা কার আয়তনের ইট নির্মিত স্তুপটির চতুর্দিকে রয়েছে কারুকার্য। স্তুপের উপরের অংশ যথাক্রমে পাঁচটি পর্যায়ে বিভক্ত হয়েছে বলে এটিকে " পঞ্চ রথকৃতি স্থাপত্য " বলা হয়ে থাকে। এই স্তুপটির স্থাপত্য কৌশল ওড়িশার রত্ন গিরি স্তুপের অনুরূপ।

ভরতপুর গ্রামটি পানাগড় রেলস্টেশনের দখিন দিকে চার মাইল দূরে দামোদর নদের কাছে অবস্থিত। পুরাতত্ত্বিক নির্দশনটি প্রাচীন স্মারক তথা প্রত্নতাত্ত্বিক স্থল রুপে ঘোষণা করা হলেও এটিকে ভ্রমণ কেন্দ্র তৈরির বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে ভরতপুর গুরুত্বপূর্ণ হয়েও একটি অবহেলিত গ্রাম হিসাবেই এক পাশে পড়ে রয়েছে।







Sunday, 12 May 2019

নিমতা কালী বাড়ি, নিমতা, উত্তর চব্বিশ পরগনা।

নিমতা  আদি‌ কালী মন্দির -----

৩০০ বছরের বেশি পুরনো এই কালী মন্দির লোকের কাছে নিমতা কালী বাড়ী বলে পরিচিত। শুধুমাত্র কলকাতা বা পার্শ্ববর্তী অঞ্চল নয়, সারা পশ্চিম বাংলার মধ্যে এটি একটি পুরনো প্রসিদ্ধ কালী মন্দির। কলকাতার আদি জমিদার সাবর্ন রায় চৌধুরী পরিবারের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত বলে শোনা যায়।

কথিত আছে ......... মন্দিরের সামনেই রয়েছে মঠপুকুর বলে যে দিঘি, সেই দিঘি থেকে পাওয়া যায় তিনটি প্রস্তর খন্ড এবং তার একটি দিয়ে মায়ের মূর্তি তৈরি করা হয়। আগে এই দিঘির জল মায়ের ভোগ‌ বা পূজা অর্চনার কাজে লাগানো হতো। কিন্তু এখন জল দূষিত হওয়ায় আর তা করা হয় না।

দেবী মূর্তির বিশেষত্ব ------ এখানে মায়ের দুটি হাত, যেখানে সাধারণত চারটি হাত হয়। পাশেই রয়েছে শিবমন্দির। মায়ের মন্দিরে উঠার সিঁড়ির দু পাশে রয়েছে  শ্রী রামকৃষ্ণ ও সারদা মায়ের সাদা প্রস্তর মূর্তি। মন্দির চত্বরে রয়েছে রাধা গোবিন্দ মন্দির। আর রয়েছে রথ যা রথযাত্রায় সুন্দর ভাবে সাজানো হয়।

সাধারণত সকাল থেকে পূজো আরম্ভ হয়। দুপুরে কিছুক্ষণ মন্দির বন্ধ থাকে। বিকেলে মন্দির খোলার পর, সন্ধ্যা আরতির পর রাত্রে আবার বন্ধ হয়। প্রতি আমাবস্যায় বিশেষ পূজো হয় এবং পূজার শেষে ভোগ বিতরণ করা হয়।  কালী পূজোতে আলো দিয়ে মন্দির চত্বর বিশেষ ভাবে সাজানো হয় এবং এই সময় মন্দিরের পাশের মাঠে তুবরী প্রতিযোগিতা হয়।

বেলঘরিয়া বা বিরাটী রেল স্টেশন থেকে অটো বা বাসে সহজেই আসা যায়। স্টপেজ.... বটতলা বা নিমতা কালী বাড়ী। দূরত্ব প্রায় ৩ কি মি।



















Saturday, 11 May 2019

শ্রী শ্রী জয়চন্ডী মন্দির, হাট বসন্ত পুর, হুগলি।

শ্রী শ্রী জয়চন্ডী মন্দির, গ্রাম - হাটবসন্ত পুর, জেলা - হুগলি।

মন্দিরটি ১৭৩৪ খীষটাবদে ( ১৬৫৬ শকাবদে ) নির্মিত। অর্থাৎ ২৮৫  বছরের পুরনো। মন্দিরের গর্ভগৃহে শ্রী শ্রী জয়চন্ডী দেবী ঘটে পূজিত হন। মন্দিরটি পশ্চিম মুখী ও আটচালা। প্রবেশ পথটি তিন খালান। বর্তমানে মন্দিরটি অনেকটা বসে যাওয়ার ফলে ভিত্তিবেদী ভূমি সমতলে এসে গেছে। মন্দিরের সামনেই অলিন্দ। গর্ভগৃহে ঢোকার দুটি প্রবেশ পথ। একটি পশ্চিম দিকে, অপরটি দখিন দিকে। সামনের দিকে অর্থাৎ পশ্চিম দিকের দেয়ালে রয়েছে বর্ণাঢ্য টেরাকোটার কাজ। আর দখিন দিকেও রয়েছে অল্প কিছু টেরাকোটার কাজ। রামায়ণ সহ বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনী, সাধারণ মানুষের তৎকালীন জীবন ও বিভিন্ন সাধারণ নকশা-ই টেরাকোটার বিষয়।

দেবী চন্ডী, দূর্গা দেবীর রূপভেদ। তিনি "শক্তি" নামে পরিচিত। মারকেনডেয় পূরানে দেবী চন্ডী শুম্ভ ,নিশুম্ভ দুই দানব এবং চন্ড ও মুন্ডসহ আরোও অনেক কে বধ করেন। চন্ড রূপ ধারণ করে দেব শত্রু দের বধ করেন বলে তাঁর নাম হয় চন্ডী। চন্ডীই যখন ভক্তদের দুর্গতি বিনাশ করেন তখন তাঁকে বলা হয় দূর্গা। আর তাঁর জয় চন্ডী রুপ হ'ল......... তিনি দ্বিভুজা, তিন নয়নী, গৌরবরনা, বরাভয়াহসতা এবং পদ্ম ফুলের উপর দন্ডায়মানা।

উল্লেখিত গ্রামের চিনা বঙশ এই মন্দির টি প্রতিষ্ঠা করেন। এদের পূর্বের পদবী ছিল পাল। এই বঙশের কোনো এক পূর্ব পুরুষকে বর্ধমানের রাজা "চিনা" উপাধি প্রদান করেন। মন্দিরের দখিন দিকের গায়ে যে প্রতিষ্ঠা ফলক রয়েছে তা এসবের সাক্ষ্য বহন করে চলেছে।

হাওড়া-আরামবাগ রেলপথে -- মায়াপুর ষ্টেশন। এটি আরামবাগের আগের ষ্টেশন। মায়াপুরের ৩ কি মি দূরে হাট বসন্ত পুর। মায়াপুর ষ্টেশন থেকে প্রথমে মুথাডাঙগা। সেখান থেকে টোটো বা বাসে বলরামপুর। আবার সেখান থেকে টোটো তে বা হেঁটে হাট বসন্ত পুর। আরামবাগ বা তারকেশ্বর থেকে বাসেও এখানে আসা যায়।