Wednesday, 15 May 2019

পল্লী কবি কুমুদ রঞ্জন মল্লিক, কোগ্রাম।

"বাড়ি আমার ভাঙ্গনধরা অজয় নদীর বাঁকে,
জল সেখানে সোহাগ ভরে স্থলকে ঘিরে রাখে"

বর্ধমানে পুরনো জি টি রোডের মোড়ে নবাবহাট। এখানে আছে ১৭৮৮-১৭৯০ সালে তৈরি ১০৮+১=১০৯ শিব মন্দির। রুদ্রাখের মালার মত। একই মাপের। একই রঙের। এখান থেকে শান্তিনিকেতন ৫২ কি মি দূরে। অবনসেতু হয়ে পথ গিয়েছে সোজা শান্তিনিকেতন। তার আগে গুসকরা। মঙ্গলকোটের নতুনহাটের মোড় থেকে বাঁ দিকে গুসকরার পথে কিছুটা গিয়ে কুনুরের উপর কুমুদ সেতু পার হয়ে ডান দিকে পথ গিয়েছে কোগ্রামে। পল্লীকবি কুমুদরঞ্জন মল্লিকের জন্মভিটে।

কুমুদরঞ্জনের আমবাগানকে বাঁয়ে রেখে পথ চলা।দুদিক অজয় আর কুনুর এগিয়ে আসছে। ছোট্ট কুনুর কোগ্রামকে দখিন ও পুব দিকে বেড় দিয়ে অজয়ের মিশেছে। অজয় এখানে উত্তর বাহিনী। অজয়ের এ পারে বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোট, ওপারে বীরভূমের নানুর। মঙ্গলকাব্যের উজানী নগর আজকের কোগ্রাম। পল্লীকবি কুমুদ রঞ্জনের কোগা।

চৈতন্য মঙ্গলের কবি লোচনদাসের শ্রী পাট ছিল কোগ্রামেই। অল্প বয়সে বিয়ে করেও লোচনদাস বিদ‍্যআভ‍্যআস করে যান। ভুলে যান সংসার ,  যৌন জীবন। স্ত্রী ক্রুদ্ধ হয়ে গাঁয়ের নাম দেন কুগ্রাম। লোচনদাস তাকে কোগ্রাম করেন। এখন কোগা। অজয়ের ধারে লোচনদাসের সমাধি। কাছেই সর্বমঙ্গলা মন্দির। আর এক সতীপীঠ। কুনুর নদী ঝাঁপিয়ে পড়েছে গেরুয়া-বসন-উদাসীন-সনন‍্যআসী সম অজয়ের বুকে।

















No comments:

Post a Comment